April 17, 2026, 6:58 am
শিরোনাম:
বিএনপি ছেড়ে এনসিপিতে ১৫০ নেতাকর্মী, চাঁদপুরে নতুন সমীকরণ বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যাক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষক কার্ড’ বিতরণে বিতর্ক: ‘কৃষক’ পরিচয়ে মঞ্চে ওঠা ব্যক্তি নিয়ে প্রশ্ন তিস্তাচরের মানুষের দুর্ভোগ তুলে ধরে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি রংপুরের এমপির রায়হান সিরাজ পহেলা বৈশাখে ভাসানীর মাজারে তারেক রহমান: “জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আপসহীন বিএনপি দীর্ঘ ১৬ বছর পর শুরু হচ্ছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ঢাবি এলাকা থেকে তুলে নেওয়া, নির্যাতনের স্মৃতি—৪ বছর পর মুখ খুললেন এমপি আক্তার হোসেন ২১ বছরের অভিমান শেষ উত্তর মাফ করবো না কৃষক কার্ডের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলে কৃষি কার্ডের উদ্বোধন, কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার

২১ বছরের অভিমান শেষ উত্তর মাফ করবো না

মো: আইয়ুব আলী

২১ বছরের অভিমান শেষ উত্তর “মাফ করব না

মো: আইয়ুব আলী। রংপুর
দীর্ঘ ২১ বছরের অভিমান, অবিচার আর সম্পর্কের ভাঙন—সবকিছুর শেষ দৃশ্য যেন আরও বেশি বেদনাদায়ক হয়ে উঠল এক বৃদ্ধার মৃত্যুশয্যায়। প্রায় ৭৫ বছর বয়সী এক নারী, যিনি জীবনের শেষ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে থেকেও তার প্রতি করা অবিচারের কাছে নতি স্বীকার করেননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বহু বছর আগে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে ওই নারীর সঙ্গে তার তিন ভাইয়ের বিরোধ সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রাপ্য সম্পত্তি থেকে তাকে বঞ্চিত করা হয়। এমনকি তাকে যে অংশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, সেটিও ছিল বাড়ির পুকুরের ভেতরের একটি অংশ—যা ন্যায্য হিস্যার তুলনায় অনেক কম।
এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভ ও অপমান বুকে নিয়ে তিনি ভাইদের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেন। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়—২১ বছর—তাদের মধ্যে কোনো কথা হয়নি।
সময় গড়িয়ে যায়, বয়স বাড়ে। হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই বৃদ্ধা। পরিবারের বংশগত সমস্যার কারণে তিনি গুরুতর শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে, বহু বছরের নীরবতা ভেঙে তিন ভাই একসঙ্গে এসে হাজির হন বোনের শয্যার পাশে। জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে তারা বোনের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অনুতপ্ত কণ্ঠে ভুল স্বীকার করে মাফ চেয়ে নেন তারা।
কিন্তু তখনও নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন ওই বৃদ্ধা। কথা বলার শক্তি না থাকায়, অক্সিজেন মাস্ক পরা অবস্থায় কাগজ-কলমে নিজের শেষ উত্তরটি লিখে দেন—
“মাফ করব না।”
এই তিনটি শব্দ হয়তো সাধারণ মনে হতে পারে, কিন্তু এতে জমে ছিল এক জীবনের কষ্ট, অবহেলা আর ন্যায়ের দাবি।
স্থানীয়দের মতে, ঘটনাটি শুধু একটি পারিবারিক দ্বন্দ্ব নয়, বরং এটি একটি কঠিন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি—যেখানে সম্পত্তির লোভ অনেক সময় রক্তের সম্পর্ককেও হার মানায়।
এই ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, জীবনের শেষ মুহূর্তে এসে অনুশোচনা প্রকাশের চেয়ে সময় থাকতে সম্পর্কের মূল্য দেওয়া জরুরি। কারণ কিছু ক্ষত এমনই গভীর হয়, যা শেষ সময়েও আর সারানো যায় না। বিদ্যার শেষ আকুতি ছিল কোন ভাই বা স্বজন যেন এরকম না করে।



ফেসবুকে আমরা