রংপুরে মলম পার্টির খপ্পরে যুবক সর্বস্বান্ত, পুলিশের হেফাজতে উদ্ধার
আইয়ুব আলী, রংপুর
রংপুর নগরীর ব্যস্ততম মর্ডান মোড় এলাকায় আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে অজ্ঞান পার্টি বা কথিত ‘মলম পার্টি’। প্রতারণার শিকার হয়ে এক যুবক সর্বস্ব হারিয়ে অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে ওই যুবক রংপুর মর্ডান থানার পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তার বাড়ি লালমনিরহাট জেলায় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে মর্ডান মোড় এলাকায় পথচারীরা এক যুবককে অসুস্থ ও অচেতনসদৃশ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি স্থানীয় পুলিশকে জানানো হলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি মলম পার্টির খপ্পরে পড়ে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র হারিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া যুবক মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন। তার সঙ্গে থাকা কোনো পরিচয়পত্র বা মোবাইল ফোন পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতারক চক্রটি কৌশলে তাকে অজ্ঞান বা দুর্বল করে সবকিছু হাতিয়ে নেয়। পরে তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকে বলছেন, গ্রামের সাধারণ মানুষ জীবিকার প্রয়োজনে কিংবা পরিবারের টানে শহরে আসেন নানা স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। সচেতন মহল মনে করছে, মলম পার্টির মতো অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নজরদারি ও জনসচেতনতা প্রয়োজন।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “প্রতিদিন কত মানুষ রংপুর শহরে আসে। কেউ চিকিৎসার জন্য, কেউ কাজের খোঁজে, আবার কেউ বাড়ি ফেরার পথে এখানে নামে। এ ধরনের ঘটনা খুবই মানবিক বিপর্যয়। একজন মানুষ যখন সব হারিয়ে রাস্তায় পড়ে থাকে, তখন সেটা শুধু একটি খবর নয়, আমাদের সমাজের জন্যও লজ্জার বিষয়।”
স্থানীয়রা আরও জানান, অনেক সময় প্রতারক চক্র বিভিন্নভাবে যাত্রীদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে খাবার, পানীয় বা সুগন্ধি জাতীয় কিছু ব্যবহার করিয়ে অজ্ঞান করে ফেলে। এরপর টাকা, মোবাইল, ব্যাগসহ সবকিছু নিয়ে পালিয়ে যায়। বিশেষ করে বাস টার্মিনাল, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও জনসমাগম এলাকায় এ ধরনের চক্র বেশি সক্রিয় থাকে।
রংপুর মর্ডান থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছেন, যুবকের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তার পরিবারের সদস্য বা পরিচিত কেউ যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত প্রতারক চক্রকে শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করা, সন্দেহজনক আচরণ দেখলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো এবং একা চলাচলের ক্ষেত্রে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ওই যুবকের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, মানুষ হিসেবে আমাদের দায়িত্ববোধ কতটা কমে গেছে, যখন একজন অসহায় মানুষকে রাস্তায় পড়ে থাকতে হয় সর্বস্ব হারিয়ে।
মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও সচেতন ও মানবিক হওয়া জরুরি।