“আন্দোলন হয় তিস্তাপাড়ে, বাজেট চলে যায় পদ্মাপাড়ে” — তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে নতুন আশার আলো
সৌরভ উজজামান,ঢাকা
দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চলের মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে একটি স্লোগান— “আন্দোলন হয় তিস্তাপাড়ে, বাজেট চলে যায় পদ্মাপাড়ে।” তিস্তা নদীকে ঘিরে অবহেলা, পানির সংকট, নদীভাঙন ও উন্নয়ন বৈষম্যের অভিযোগ তুলে বছরের পর বছর ধরে আন্দোলন করে আসছেন তিস্তাপাড়ের মানুষ। সেই আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়ন।
আজকে পানিসম্পদমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত কাজ করছে সরকার। মন্ত্রীর এমন বক্তব্যে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন উত্তরাঞ্চলের মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, বহু প্রতীক্ষিত এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রংপুরসহ তিস্তা অববাহিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
তিস্তা নদী শুধু একটি নদী নয়, উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে কৃষকরা চরম দুর্ভোগে পড়েন, আবার বর্ষাকালে বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাজারো পরিবার। তাই দীর্ঘদিন ধরেই তিস্তা নদীর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা।
“জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাও” আন্দোলনের নেতাকর্মীরা বলছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শুধু নদী খনন নয়, বরং নদীভাঙন রোধ, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নদীকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নত হবে এবং আঞ্চলিক বৈষম্যও কমবে।
তবে স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করেন, শুধু আশ্বাস নয়, এখন প্রয়োজন দৃশ্যমান অগ্রগতি। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও প্রকল্পটি এখনো বাস্তব রূপ পায়নি। ফলে সরকারের সাম্প্রতিক ঘোষণার পরও অনেকেই প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার দিকে নজর রাখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন উত্তরাঞ্চলের জন্য একটি গেম-চেঞ্জার প্রকল্প হতে পারে। কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন এনে এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এখন তিস্তাপাড়ের মানুষের একটাই প্রত্যাশা— আন্দোলনের স্লোগান যেন আর বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি না থাকে। “আন্দোলন হয় তিস্তাপাড়ে, বাজেট চলে যায় পদ্মাপাড়ে” কথাটি পেছনে ফেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হোক, এমনটাই চান তারা।