“আন্দোলন হয় তিস্তাপাড়ে, বাজেট চলে যায় পদ্মাপাড়ে” — উত্তরের মানুষের ক্ষোভ
সৌরভ উজ্জামান,
উত্তরের জনপদে আবারও জোরালো হচ্ছে তিস্তা ইস্যু। বছরের পর বছর ধরে নদীভাঙন, খরা মৌসুমে পানির সংকট, বর্ষায় ভয়াবহ বন্যা—সব মিলিয়ে তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবন যেন এক অনিশ্চয়তার নাম। অথচ স্থানীয়দের অভিযোগ, আন্দোলন ও দাবি-দাওয়া যতই তিস্তাপাড়ে হোক না কেন, উন্নয়ন বাজেটের বড় অংশ চলে যায় দেশের অন্য অঞ্চলে, বিশেষ করে পদ্মাপাড়ে। ফলে “আন্দোলন হয় তিস্তাপাড়ে, বাজেট চলে যায় পদ্মাপাড়ে”—এই স্লোগান এখন উত্তরের মানুষের মুখে মুখে।
লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা ও রংপুর অঞ্চলের তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারা বলছেন, বছরের পর বছর তারা শুধু আশ্বাসই পেয়েছেন। তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা বহুবার আলোচনায় এলেও বাস্তবে দৃশ্যমান অগ্রগতি খুব কম। শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি না থাকায় কৃষকরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। আবার বর্ষা এলেই দেখা দেয় ভাঙন ও বন্যার আতঙ্ক।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, “আমরা প্রতি বছর নদীভাঙনে ঘর হারাই, ফসল হারাই। আন্দোলন করি, মানববন্ধন করি, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।”
তিস্তা বাঁচাও আন্দোলনের নেতারাও বলছেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই বৈষম্যের শিকার। তাদের দাবি, দেশের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও তিস্তা কেন্দ্রিক প্রকল্পগুলো বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। এতে উত্তরবঙ্গের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তিস্তা শুধু একটি নদী নয়; এটি উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি, কৃষি ও মানুষের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে বদলে যেতে পারে পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র। একইসঙ্গে কমতে পারে বন্যা ও নদীভাঙনের ক্ষতিও।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তিস্তা ইস্যু নিয়ে সরব সাধারণ মানুষ। অনেকে লিখছেন, “উন্নয়ন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। শুধু রাজধানী বা নির্দিষ্ট অঞ্চলে উন্নয়ন হলে দেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে।”
তিস্তাপাড়ের মানুষের দাবি, আর আশ্বাস নয়—এবার তারা বাস্তব কাজ দেখতে চান। তাদের ভাষায়, “তিস্তার মানুষ আর অবহেলা চায় না, তারা ন্যায্য অধিকার চায়।”