November 7, 2026, 5:58 am
শিরোনাম:
৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস: জাতীয় ঐক্যের আহ্বান রংপুরে নাস্তার প্রলোভনে বাক্‌প্রতিবন্ধী কিশোরকে ধর্ষণের অভিযোগ, ৬১ বছর বয়সী ব্যক্তি গ্রেপ্তার রাজশাহীতে ১৬ বছর বয়সী কিশোরী নিখোঁজ, থানায় জিডি মানবসেবার প্রত্যয়ে ‘বিদায়ী উপহার ফাউন্ডেশন’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পার্বতীপুরে পুকুরে নামিয়ে ৭ বছরের শিশুকে হত্যার অভিযোগ : মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধ আটক ​ ঈশ্বরদীতে বাস-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তরুণ নিহত, তরুণী হাসপাতালে পার্বতীপুরে বজ্রনিরোধক ক্যাবল চুরি, শ্রমিকের কারাদণ্ড পার্বতীপুরে বিরোধের জেরে মারামারি, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু; গ্রেপ্তার ২ পার্বতীপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ মানববন্ধন, মিছিল ও মাদকবিরোধী কমিটি—তারপরও বন্ধ হচ্ছে না গাঁজা বিক্রি

৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস: জাতীয় ঐক্যের আহ্বান

আইয়ুব আলী

৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস: জাতীয় ঐক্যের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
আজ ৭ নভেম্বর ২০২৬, ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে থাকা ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল। এ দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের দিন বলেও উল্লেখ করা হয়।

বক্তব্যে বলা হয়, একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণে ইতিহাসের শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতকে ভুলে যাওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনি সারাক্ষণ অতীতের মধ্যে পড়ে থাকাও সমীচীন নয়। বরং ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের পথ নির্মাণ করতে হবে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরকে বাংলাদেশের পথ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ তারিখ হিসেবে উল্লেখ করে বক্তৃতায় দাবি করা হয়, সে সময় যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করতে চেয়েছিল এবং দেশের সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে চেয়েছিল, সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তাদের পরাজয় ঘটে।

বক্তব্যে বাংলাদেশের পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন ঘটনাও তুলে ধরা হয়। এতে দাবি করা হয়, পরবর্তী সময়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ড, জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ এবং ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার অভিযোগও এতে উল্লেখ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় পর দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রাম এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনকে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর যেমন সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমেছিল, তেমনি ২০২৪ সালেও দেশের সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে নিজেদের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে অংশ নিয়েছে।

ভবিষ্যতে যাতে কোনো শক্তি দেশের জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে এবং বাংলাদেশকে কোনো দেশের তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সে জন্য জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখতে ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের চেতনা ধারণ করার আহ্বান জানানো হয়।

বক্তব্যে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। এসব ঐতিহাসিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে বলে দাবি করা হয়।

একই সঙ্গে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র নির্মাণে জাতীয় ঐক্যকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই চেতনাকে ধারণ করতে হবে।

সবশেষে জাতীয়ভাবে ৭ নভেম্বর উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করা হয়। একই সঙ্গে ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনা বাংলাদেশের আগামী দিনের রাষ্ট্র নির্মাণের প্রেরণা ও পাথেয় হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।



ফেসবুকে আমরা