নিজস্ব প্রতিবেদক সুজিত কুমার বর্মন
সংসদে আইনমন্ত্রীকে খোচা মেরে বিচারব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন এমপি আক্তার হোসেন
পুরের কাউনিয়া-পীরগাছা (৪) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আক্তার হোসেন জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বর্তমান সরকারের বিচারব্যবস্থা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বর্তমান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক-এর নাম উল্লেখ করে বলেন, “আর পাঁচ মিনিট সময় পেলে তাকেও তওবা করতে বাধ্য করা যেত।” তার এই মন্তব্য সংসদ কক্ষে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বক্তব্যে এমপি আক্তার হোসেন দাবি করেন, দেশে ধীরে ধীরে একটি “ফ্যাসিস্ট ধাঁচের” শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠছে, যেখানে বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা সংকুচিত হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, “আজকে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পেতে আদালতের দ্বারস্থ হলেও অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সঠিক বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিচারব্যবস্থা যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, তাহলে রাষ্ট্রের ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়ে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে হস্তক্ষেপের কারণে বিচারিক কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে এবং এর ফলে জনগণের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এ সময় তিনি অতীতের আলোচিত “বিচারপতি কালা মানিক”-এর উদাহরণ টেনে এনে বলেন, “যেভাবে একসময় কিছু বিচারিক ঘটনা জাতির সামনে বিতর্ক তৈরি করেছিল, আজও সেই একই ধারা আমরা লক্ষ্য করছি। এতে করে জনগণ বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারাচ্ছে।” সংসদে দেওয়া তার এই বক্তব্য ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ তার বক্তব্যকে সাহসী ও সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করছেন, আবার কেউ এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও অভিহিত করছেন। এদিকে, কাউনিয়া ও পীরগাছা এলাকায় স্থানীয় জনগণের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, সংসদে এ ধরনের বক্তব্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোকে সামনে নিয়ে আসতে সহায়ক হতে পারে। তবে অপর একটি অংশ বলছে, এমন সংবেদনশীল বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ বক্তব্য প্রয়োজন। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। তাই এ নিয়ে সংসদে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ফেলতে পারে।