September 21, 2026, 8:40 am
শিরোনাম:
বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল, একই দিনে বিশ্ববাজারে কমল এক লাফে ২০ টাকা বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডাকে অভিযোগ হিসেবে গ্রহণে দুদকের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ: নাহিদ ইসলাম জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর লংমার্চ চাঁদের মাথায় উজ্জ্বল তারা, সন্ধ্যার আকাশে মুগ্ধ বাংলাদেশ গঙ্গাচড়ায় মাদকবিরোধী মিছিল ও আলোচনা সভা আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে গুমের শিকারদের সন্ধান ও বিচারের দাবি মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান সালাহউদ্দিন আহমদের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ মাদক সেবন বাধা দেয়ায় রংপুরে শিক্ষকসহ একই পরিবারের ৪ জন হত্যা

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল, একই দিনে বিশ্ববাজারে কমল

আইয়ুব আলী

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল, একই দিনে বিশ্ববাজারে কমল

আইয়ুব আলী । রংপুর

বাংলাদেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর দিনেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম কমে এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। একই দিনে বাংলাদেশে নতুন করে বাড়ানো দামে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়েছে।

সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৬৫ টাকা হয়েছে। নতুন দাম সোমবার রাত ১২টার পর থেকে কার্যকর হয়েছে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের চিত্র ছিল ভিন্ন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২ দশমিক ০৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৭১ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম প্রায় ২ দশমিক ১৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ১৫ ডলারে দাঁড়ায়। দিনের শুরুতে দুই ধরনের তেলের দামই ১০ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল।

কেন বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমল

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার পেছনে কয়েকটি বিষয় কাজ করছে বলে আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা এবং সৌদি আরব থেকে তেল সরবরাহ আংশিকভাবে স্বাভাবিক হওয়ার খবর।

রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে ইরান যুদ্ধের বিষয়ে কূটনৈতিক উদ্যোগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ পরিস্থিতিও আগের তুলনায় কিছুটা উন্নত হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তেলের বাজারে ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমলে সাধারণত অপরিশোধিত তেলের দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও দ্রুত বাড়তে পারে বলেও বিভিন্ন বিশ্লেষণে সতর্কতা রয়েছে।

তাহলে বাংলাদেশে দাম বাড়ল কেন?

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণের বিষয়টি শুধু কোনো একটি দিনের আন্তর্জাতিক বাজারদরের ওপর নির্ভর করে না। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এবং পরিবহন বা ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই সময়ের বাড়তি আমদানি ব্যয়ের কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বড় ধরনের লোকসানে পড়েছে।

মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে বিপিসির লোকসান হয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। রয়টার্সও সরকারি তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ওই সময় বিপিসির লোকসান ছিল প্রায় ২২৮ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন টাকা।

সরকারের বক্তব্য হলো, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পরও দেশের বাজারে একই হারে দাম সমন্বয় করা হয়নি। ফলে আমদানি করা জ্বালানি তুলনামূলক বেশি দামে কিনে দেশে কম দামে বিক্রি করায় বিপিসির লোকসান বাড়তে থাকে। নতুন মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে সেই লোকসান কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক দাম কমলেও বাংলাদেশে সঙ্গে সঙ্গে দাম কমবে কি?

এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আন্তর্জাতিক বাজারে একদিন তেলের দাম কমেছে বলেই বাংলাদেশে পরদিন জ্বালানি তেলের খুচরা দাম কমে যাবে, এমনটি নিশ্চিত নয়। কারণ বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের চূড়ান্ত দামের সঙ্গে আমদানি ব্যয়, পরিবহন বা ফ্রেইট চার্জ, কর ও শুল্ক, ডলারের বিনিময় হার, পরিশোধন ও বিতরণ ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয় যুক্ত থাকে।

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের মার্চ থেকে স্বয়ংক্রিয় জ্বালানি মূল্য সমন্বয় ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এই ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজারদর, আমদানি ব্যয়, কর, বিনিময় হার, বিপিসির মার্জিন, ভ্যাট এবং বিতরণ ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের কাঠামো রয়েছে।

তাই ২১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে যাওয়া এবং একই দিনে বাংলাদেশে দাম বাড়ার বিষয় দুটি পরস্পরবিরোধী মনে হলেও এর পেছনে সময়ের ব্যবধান ও মূল্য নির্ধারণের বিভিন্ন উপাদান রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্তটি মূলত আগের কয়েক মাসের আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয় ও বিপিসির লোকসানের হিসাবের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে।

বাড়তি দামের প্রভাব

নতুন দাম কার্যকর হওয়ায় পরিবহন খরচসহ বিভিন্ন পণ্য ও সেবার ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ডিজেলের দাম বাড়ায় বাস, ট্রাক, পণ্য পরিবহন, কৃষি ও বিভিন্ন উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে ব্যবসায়ী ও শিল্পসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে যে জ্বালানি ব্যয় বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ের ওপর চাপ পড়তে পারে এবং এর প্রভাব মূল্যস্ফীতিতেও পড়তে পারে।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ভবিষ্যতে কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, তেল সরবরাহ ও জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতি এবং কূটনৈতিক অগ্রগতির ওপর। ফলে আজকের দরপতনকে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যপতনের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। একইভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেই বাংলাদেশের বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে জ্বালানি তেলের দাম কমবে, এমন সিদ্ধান্তও এখনই দেওয়া যায় না।



ফেসবুকে আমরা